কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

পরিবর্তনের জিজ্ঞাসা

ওগো নদী তুমি বইছ কেন নিরবধি এই দিকটি ধরে?
ওহে অন্তরীক্ষ অমন করে কাঁদছ কেন তুমি অবিরত?
ছিটকে ফেলছ কেন জল এই অস্থির পৃথিবীর তরে?
এই মাঠ তুমি কেমনে হলে বল এমন গাঢ় সবুজ বর্ণ?
যথাসময়ে তোমার বুকেই তো ধরো এতোসকল কষ্ট-শ্রমের স্বর্ণ।
ওহে শৃঙ্খলা তুমি কেন রাখলে মোরে এমন বদ্ধ? করলে মুক্তির দ্বার রুদ্ধ।
হে ধর্ম তুমি কেন করতে পারনি এখনো মোরে সরল, শুদ্ধ?
ও বিলাসিতা, তুমি কেন এমন নিস্তেজ হলে? দিতে পার না এখন আর মোরে আনন্দ।
ওহে জীবন তুমি কেন ধরো উপন্যাসের বাস্তবতা? ধরতে পারনা কাব্যের ছন্দ?
ওগো ভালোবাসা তুমি এমন না হয়েও কেন বল এমন হলে?
বদল করলে যেন নিজেকে লোভ, হিংসা আর ঘৃণার ছলে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলাগুলি( কবিতা )

বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ করেই গুলাগুলি
শুরু হয়ে গেছে মিসিলধারীদের ঢুলাঢুলি,
ওরা আজ মেতে উঠেছে ধ্বংসের খেলায়
হঠাৎ করেই যেন ক্যাম্পাস পরিনত হল
অস্র আর বারুদের মেলায়।

বিল্ডিঙে বিল্ডিঙে গিয়ে গ্লাস ভাংচুর
আগে কখনও শুনা হয়নি
এমন ধ্বংসের সুর।
কখনও ভাবিনি রাজনীতির প্রতিযোগিতা
হতে পারে এমন রূঢ়।
কোনো এক অশরীরী যেন
দূর থেকে নাচাচ্ছে আপন শুঁড়।

প্রতিবাদ ঝড় তুলছে যেন
বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমাহীন ধুলা ,
আর এমন নিকৃষ্ট পরিস্তিতির শিকার হচ্ছে
আমাদের নিরীহ চার চাকার বাসগুলা।

চারটি ভিন্ন সময় নিয়ে ছোট্ট একটি কবিতা

হ্যাঁ আমি করব করব আমার জীবন বলীদান
মুক্তির জন্য করব নিজেকে চিরতরে অন্তর্ধান,
তবুও ছাড়বো না আমি মুক্তির মায়া
এর মাঝেই যে নিহিত আছে বিধাতার ছায়া।
 

যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ---------
চারিদিকে শুধু কান্না আর হাহাকার,
তারপরও চালিয়ে যাচ্ছি যুদ্ধের রথ
পাবোই পাবো একসময় আমরা মুক্তির পথ।

আহ!! আজ আমরা মুক্ত
বিশ্ব সংঘে আমরা এখন স্বাধীনভাবে যুক্ত ,
নাহ!! বৃথা যায়নি আমাদের এতোখানি রক্ত
আজ সবাই জানে আমরা ছিলাম স্বাধীনতার কতোখানি ভক্ত।

মারামারি, হানাহানি হায়!! আজ আমরা মৃত্যু ভয়ে শঙ্কিত
বিশ্ব মানচিত্রে আমরা এবার দুর্নীতির পেঞ্চিলে অঙ্কিত,
নিজেদের যখন আমরা করেছি নিজেদেরই দুশমন
কি দরকার আমাদের আর নৃশংস হানাদারগণ ?

রাজনীতি নিয়ে একটি রম্য কবিতা

রাজ"নীতি"করা আজ করছেন সবখানে রাজ
তাদের অভিধান থেকে ‘নীতি’ শব্দটি বাদ পড়েছে আজ
স্বার্থ, অর্থ আর লোকদেখানোই
এখনকার পঞ্জিকা স্রোতে তাদের সারাদিনের কাজ।
আর নির্বাচনের কিছুদিন পূর্বে
আশার বাণী আকাশে বাতাসে উড়বে--
তোমরাই তো আমার সব
সাক্ষী থাকবে এই কালো মাইক
আর আমাদের সকলের ত্রাণকর্তা- ঐ রব,
যতদিন থাকছো না তোমরা আমায় ছাড়া
কথা দিচ্ছি না খেয়ে কেউ পরবে না মারা,
আমি ঘনিয়ে আনবো মানুষে মানুষে সমতা
এ অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকবে ভালবাসা আর মমতা।
আমি তো শুধু সামান্য প্রতিনিধি মাত্র
তোমরাদের কাছেই তো রইবে
আলাদীন-প্রদীপ সদৃশ আসল ক্ষমতার পাত্র।

এখন আমি নির্বাচিত প্রতিনিধি
রাখব আমার ক্ষমতার গতিবিধি,
যেখানে-যেখানে থাকবে টাকার গর্ত
সেখানেই আমি আছি দ্বিধাহীন নিঃশর্ত,
আর যে স্থানে আছে শুধু দুঃখ, কষ্ট আর জ্বালা
গিয়েই চলে আসবো সেখান থেকে
লাগিয়ে গলায় বর্ণময় ফুলের মালা।
জনগনের কল্যাণেই যদি থাকি সদা ব্যাস্ত,
কিভাবে বাড়াবো নিজ সম্পদের স্বাস্থ্য?

কৃষাণের মুখের ঝকঝকে হাসি
মুহূর্তেই করে দেয় ওরা রক্তহীন বাসি,
কাজ যদি না হয় কথার ছলে
তবে ছিনিয়ে নেয় তারা ক্ষমতার বলে।
কারখানার শ্রমিকদের হয় ঠগানো
উগ্রপন্থীদের উগ্র লেজ কে হয় রগানো,
রিক্সা চালকের ঘর্মাক্ত গালে চড়--
নেতাজি আসছেন চকচকে গাড়িতে করে
পথ ছেড়ে সর তোরা, পথ ছেড়ে সর।
আর ইনকাম ট্যাক্সকে দিতে ফাঁকি
কিছুই রাখেন না ওরা করার বাকি,
আলমারিতে জায়গা না হলে
ডলার সব বালিশের মধ্যে রাখি।

হঠাৎ করেই গলিতে গলিতে সন্ত্রাসী হামলা
নেতাজির গাঢ়ে এবার গুরুভার—“মিডিয়া-সামলা”
উমমম--করা হয়েছে সন্ত্রাসদের উপর মামলা
আশা করি সহজেই মিটে যাবে এসব ঝামলা,
আর হে—এ হামলায় আহত হয়েছে যারা
তারা সবাই ছিলো সন্ত্রাসদেরই করা ভাড়া।

কব্জিতে নিয়ে মোদের মূল্যবান ভোট
রাজনিতিকরা গড়েন নানাবিধ ফন্দিবাজ জোট,
আর কোটি টাকার প্রাডোতে বসে
শ্রমিকদের সমস্ত রক্ত চূষে
মুখ দিয়ে শুধু নির্গত করেন- মাই ফোট, মাই ফোট।

ছেঁকা খাওয়া নিয়ে একটি রম্য কবিতা

অনেক হয়েছে হাত ধরাধরি করে হাঁটাহাঁটি
দয়া করে এবার আমায় যেতে দাও।

ওহো! কি এমন তাড়া তোমার এতো জলদি যেতে চাও
যাবার আগে গলা ছেড়ে নাহয় একটি গানই গাও।

এমনিতেই হয়ে গেছে অনেক দেরি, সন্ধ্যা যে হতে চলেছে
বরপক্ষ দেখতে আসবে আমায়, এরকমটাই তো মা বলেছে।

কি! আমার সাথে করে প্রেম, ভালোবাসার ইয়ে
করতে চাও এবার তুমি অন্য কাউকে বিয়ে?!

ভালোবাসি তোমায়, কখনো তো একথা আমি বলিনি--
তোমাকে আমি দেখেছি সর্ব মুহূর্ত এক বন্ধুর চক্ষে
তোমার জন্য তো ধরেনি প্রেম কখনো আমার বক্ষে।

তুমি কি ভেবেছ তোমায় আমি এতো সহজেই ছাড়বো?
তোমার ছলনা আর গরিমার কাছে নাহি আমি হারবো।
নিজে মরতে না পারলে তবে তোমাকেই আমি মারবো।
----------------------------------------------------------
----------------------------------------------------------
শুরু হয়েছে বৃষ্টি, কখনো সুর তুলছে রিনঝিন, কখনো টপটপ--
ভিজছে ক্যাম্পাসের লম্বা পাকা রাস্তা আর সারি করা গাছপালা
পড়িয়ে দিচ্ছে যেন ছেলেটির গলায় প্রতারণা নামক ফুলের মালা।
 
 


মেঘবৃষ্টির স্বন

বিজলীর আলো আর কান ফাটানো ভয়ানক শব্দ, আহ!
ভয়ের মধ্যেই যেন পাচ্ছি আনন্দ আর কণ্ঠে হয়েছি বিভোর
মেঘ, বৃষ্টির আর বোধহয় হাওয়ার কণ্ঠে হয়েছি বিভোর
তাতে উৎসারিত হতে চায় হৃদয় থেকে শুধু বাহ! বাহ!
ভিজেছে মাটি, ভিজেছে ঘাস আর এবার ভিজলো মোর মন
পানি ধরেছে আনাচে-কানাচের ছোট-বড় গর্ত আর রাস্তা-পাশের নালা
সুরের প্রভাবে যেন করেছে মাতাল মেঘ-বৃষ্টির হরেক রকমের স্বন।
বিশুদ্ধ শাদা আকাশ, রঙিন পৃথিবী বিধবা নাকি সতী ধরতে পারি না, আহ!
দ্বিধার মধ্যেই যেন আনন্দ, হৃদয় থেকে উৎসারিত হচ্ছে শুধু বাহ! বাহ!
ভিজিয়ে চুল, বাজিয়ে মনে ঢোল আনন্দপিপাসুরা করছে রাস্তায় বৃষ্টিস্নান
মনে করিয়ে দেয় রবি ঠাকুরের বৃষ্টি নিয়ে সেই ঘোর লাগা সকল গান।

তার কান্না

অশ্রু ধারা ছুটিয়েছে তার কাতর দুটি লোচন
করিবার চায় সে পতি হারানোর দুঃখ মোচন,
না না, গ্রাস করেনি পতিকে এসে নিয়তির মরণ
জীবন বাস্তবতার দ্বন্দ্বে করতে হয়েছে তাদেরকে
বিচ্ছেদের বর্ণহীন, বেদনামাখা সূতাকে বরণ।


করতে পারেনি সে ভালবাসা প্রতিমাকে জয়
পার করতে হবে জীবনের সাঁকো একা
এটাই কি এখন তার চিন্তা অথবা ভয়?
নাকি স্মৃতি মন্থনের তাড়নায় ক্ষণে ক্ষণে
হচ্ছে তার ভাঙা হৃদয় আরও ক্ষয়?

অশ্রুজল তার গালে ফেলেছে ল্যাকরিম্যাল ফ্লুয়িডের পাতলা আবরণ
ইহা কেমনে করিবে তার হারানোর ব্যথা, ক্লেশকে নিবারণ?
তার হাহাকারে যেন সৃষ্টি হয় মেঘমালা, পাহাড়সারি আর তারাপুঞ্জের বুকে
এক গভীরতম খারাপ লাগার, হৃদয় ফোলানো শিহরণ।

জানলার গ্রিলের ফাঁকে তার দুটি ঊর্ধ্বগামী জিজ্ঞাসু দৃষ্টি
করছে যেন প্রশ্ন কেন করলেন তিনি তার সাজানো বাগানে
এমন হারানোমাখা, ত্যাগ আচ্ছাদিত প্রলয়ের সৃষ্টি?

কালবৈশাখী

শুরু হয়েছে এবার অপেক্ষার কালবৈশাখী
প্রকৃতির লাগামহীন উন্মাদনার এক উৎসব
যার প্রদর্শনীতে তৃপ্ত হয় মোর কাতর দুটি আঁখি,
যার এলোমেলোতা আর ক্ষিপ্রতার ছুয়ায় জুড়ায়-
মোর নিস্তব্দ, নিঃসঙ্গ আর হাহাকারময় প্রাণ পাখি।

নেচে উঠছে গাছেরা ঝাঁকিয়ে তাদের পাতা আর অসম ডাল
নূপুরের সুর তুলছে যেন, মোর বাড়ির পাশের অনতিবৃহৎ ঐ খাল।
মেঘেদের আজ অনেক তাড়া, ছুটছে তারা লাগামছাড়া
প্রবল ঘূর্ণির আঘাতে এবার, পড়ছে ক্ষুদ্র চারা গাছটি মারা।
তীরের দিকে ফিরছে দ্রুত মাঝিদের ছোট খেয়ার তরী
সতর্ক সংকেত দিচ্ছে তাদের দূরে তমসার কোনো এক আশাবরী।

ভয়ে লোকেরা অস্থির, জানলায় কি যেন করছে কনকন,
প্রকৃতি যেন আজ করেছে সীমা ছাড়ার পণ।
হায়! আল্লাহ, হায়! জিসাস, হায়! ভগবান----
হঠাৎ করেই বেড়ে গেল যেন সবার ধর্মের টান,
একই সারিতে এবার সকল মুসলমান, খ্রিস্টান আর হিন্দু
প্রকৃতির তরে আমরা সবাই নিতান্তই ক্ষুদ্র এক এক বিন্দু।
কাছেই কোথাও শুনা যাচ্ছে যেন নবজাতকের ক্রন্দন
মাতাল প্রকৃতি করেছে দৃঢ় তার চিরচারিত বন্ধন।

জেগে উঠছে যেন মোর শরীরের প্রতিটি মৃতপ্রায় অণু
প্রশান্তির বন্যায় ভরে গেছে মোর খরায় আক্রান্ত তনু।
ধন্যবাদ হে ঈশ্বর, আমার ধন্যবাদটি তুমি নিয়ো
এই ধন্যবাদের খাতিরেই নাহয়
পুনরায় এই মুহূর্তটি তুমি আমায় দিয়ো।
 
 
 


কবিতার খাতা খালি


হঠাৎ করেই আজ হয়ে গেল মোর কবিতার খাতা খালি
কতো দুঃখ-বেদনা, ভালবাসা-ছলনা দিইয়েছিলুম এর মধ্যে ঢালি,
কোথাও ছিল তার প্রাণ চাঞ্চল্যের কথা, কোথাও ছিল তার প্রেমের বাণী
আরও এঁকেছিলুম সমুদ্রতটের সৌর আলোতে চিকচিক করা মুক্তাময় বালি,
কাব্যের বেহালায় প্রশংসা গীত গেয়েছিলুম দীর্ঘ জোছনা রাতের চাঁদ করা ফালি ফালি।
আজ কেমন করে হয়ে গেল মোর কবিতার খাতা খালি??!!

খাতাটির মধ্যে রেখেছিলুম আমি সকালের নতুনত্ব, দুপুরের ক্লান্তি
আরও কহেছিলুম প্রকৃতির লীলায় লুকিয়ে আছে কতোখানি ভ্রান্তি,
তুলে ধরেছিলাম তার মধ্যে বিকালের স্নিগ্ধতা আর সন্ধ্যার আভা
মানব স্মরণীয় আর মানব হিতৈষীরাও বাড়িয়েছিলেন এর শোভা,
বলেছিলুম কিভাবে অল্প পানিতে রিনঝিন ঢেউ তুলে দক্ষিণের বাতাস
আর তপ্ত দুপুরে খাদ্য জোগাতে না পেরে দাঁড়কাকটি বসে থাকে একাকী হতাশ।

খাতাটিতে স্থান পেয়েছিল ভুকম্পন, প্লাবন, জোয়ার, ভাঁটা, খরা আর বন্যা
কহেছিলুম কিভাবে প্রণয়ের সূচে গেঁথেছিল প্রজার ছেলের সাথে রাজার কন্যা।
আজ হঠাৎ করেই হয়ে গেল মোর কবিতার খাতা খালি
প্রবৃত্তি জাগছে হাহাকার আর হতাশা পুড়িয়ে
মোর বুকে নরকের আগুন জ্বালি,
কিন্তু তাতেও ব্যর্থ আমি, জীবন বাগানের আমি যে শুধু অসহায় এক মালি।

পৃষ্ঠাসমূহ

Pages

Recent Articles